Tuesday, 19 February 2019

ফেসবুক থেকে আয় এর সেরা দশ উপায়

শুধুমাত্র ছবি আপলোড এবং বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রক্ষাই নয়, চাইলেই ফেসবুককে ব্যবহার করতে পারেন আয়ের একটি অন্যতম উৎস হিসেবে। ফেসবুক থেকে আয় করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। একটা ফ্যানপেজ তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন পোস্ট বিক্রি করেও আয় করা যায়। এমনকি বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও পণ্য বিক্রি করেও ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন সহজেই।


ফেসবুকে ১.৯৪ বিলিয়ন অ্যাকটিভ ইউজার রয়েছে। এর মানে আপনি চাইলে মুহূর্তেই এই বিপুল সংখ্যক জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারেন আপনার ব্যবসায়িক খাতটি। পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে যে কোন সময় যে কোন কারো কাছে পৌঁছে দিতে পারেন যে কোন ছবি, ভিডিও, বিজ্ঞাপন এবং বিক্রি করতে পারেন যে কোন পণ্য।
আপনি যদি ফেসবুক পেজ থেকে আয় করতে আগ্রহী হন, তবে জেনে নিন এর জন্য খোলা থাকা বিভিন্ন পথ সম্পর্কে। ফেসবুকে আয় এর এই বিভিন্ন উপায় থেকে সেরা দশটি  উপায় এখানে দেয়া হলো।

ফেসবুক থেকে আয় এর সেরা দশ উপায়

ফেসবুক থেকে আয় করার অসংখ্য উপায় থেকে সেরা ১০টি উপায় নিয়ে সাজানো আজকের পোস্ট। আশা করি, এ উপায়গুলো কাজে লাগিয়ে অন্য অনেকের মত আপনিও আয় করতে পারবেন ফেসবুক থেকে।
আরো পড়ুন:
earn money on facebookpage

১. ফেসবুক পেজ থেকে আয় করুন

ফেসবুক জুড়ে এখন বিভিন্ন পেজের বিস্তার। পেজ থেকে আয় করতে যা করবেন –

একটি ফ্যান পেজ তৈরি করুন

আপনার যদি ইতিমধ্যেই কোন ফ্যান পেজ না থাকে তবে প্রথমেই একটি ফ্যান পেজ তৈরি করে নিন। এটি যেকোন ধরনের পেজ হতে পারে। আপনি নিজে এবং অন্যরা আগ্রহী এমন যে কোন পেজ তৈরি করতে পারেন। যেমন : ফানি পেজ, ট্রাভেলিং পেজ, ট্রল পেজ ইত্যাদি।

মানসম্মত কনটেন্ট লিখুন

পেজ খোলার পর আপনার প্রথম কাজই হচ্ছে অন্যান্য ফেসবুক ইউজারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এর জন্য আপনাকে মানসম্মত কনটেন্ট পোস্ট করে যত বেশি সম্ভব পেজটাকে অ্যাংগেজ রাখতে হবে। যখনই আপনার পেজটি ভালো সাড়া পেতে শুরু করবে, অর্থাৎ লাইক, কমেন্ট, শেয়ার হবে আশানুরূপ, তখনি আপনি পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তত হবেন।
  • আপনার ফ্যান পেজের সাথে সম্পর্কিত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন। যে ওয়েবসাইট হবে মূলত আপনার ব্লগিং সাইট। ভবিষ্যতে আপনার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স বসিয়েও আয় করতে পারবেন। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, গুগল অ্যাডসেন্স থেকে পিটির ইনকাম বছরে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
  • আপনি একটি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগস্পট কিংবা উইবলিতে। অথবা অল্প কিছু টাকা খরচ করে একটি কাস্টম ডোমেইন আর ছোট একটি হোস্টিং প্যাকেজ নিয়েও আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।
  •  আপনার সাইটে ভিজিটর বাড়ানোর জন্য আর্টিকেল লিখে ওয়েবসাইটে পাবলিশ করতে থাকুন এবং আর্টিকেলগুলো ফেসবুক পেজে নিয়মিত পোস্ট করুন।
  •  ফেসবুক থেকে আয় এর জন্য আপনার ওয়েবসাইটি অবশ্যই মানসম্মত হতে হবে এবং কিছুতেই কোন আর্টিকেল কোথাও থেকে কপি করতে পারবেন না। কপি করা আর্টিকেল দিয়ে কোন দিনই আপনি সফলতা পাবেন না। আপনি যদি মানসন্মত আর্টিকেল লিখতে পারেন, তাহলে শুধু আর্টিকেল লিখেই আয় করতে পারবেন প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা ।

ফ্যান পেজের পোস্টগুলো বিক্রি করুন

এখন আপনার একটি বড় ফ্যান পেজ আছে। অথচ এখনো নিশ্চিত নন কীভাবে ফেসবুক থেকে আয় হবে! ফেসবুক থেকে আয় এর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে পেজের পোস্টগুলো বিক্রি করা।
  •  SHOPSOMETHING.COM এ সাইন আপ করুন। এক্ষেত্রে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার ফ্যান পেজটিতে কমপক্ষে ১০০০ লাইক আছে।
  • ফ্যান পেজটিকে ShopSomething  এর সাথে অ্যাড করুন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনিই পেজটির মালিক।
  • আপনার প্রত্যেকটি পোস্টের জন্য নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করে দিন। তবে এখানে এটা মাথায় রাখা ভালো যে লাগামহীন দাম হাঁকলে কেউই আপনার পোস্ট কিনতে যাবে না। সুতরাং, কোন পোস্টের জন্য মাত্রাতিরিক্ত দাম চাইবেন না।

facebook affiliate marketing

২. অ্যাফিলিয়েট অ্যাডভারটাইজিং এবং লিংক টাইপ অ্যাডভারটাইজিং এর মাধ্যমে আয় করুন

  • একটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম বা অন্যান্য লিংক টাইপ অ্যাডভারটাইজিং প্রোগ্রাম খুঁজে নিন।
  • অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আপনাকে সম্পূর্ণ ইউনিক একটি আইডি এবং  অন্যান্য মার্কেটিং মেটেরিয়াল প্রদান করবে। আপনার বিজনেস জেনারেটরের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে  এখান থেকে আপনি কমিশন পাবেন। সুতরাং, এক্ষেত্রে ফেসবুক থেকে আয় করার জন্য একটি ভালো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট খুঁজে নেয়া জরুরি।

সাইন আপ

আপনি যদি একজন অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কোন কোম্পানির মার্কেট করতে চান, তবে কোম্পানির সাইট সার্চ দিয়ে রিকয়্যারমেন্ট ফর্ম পূরণ করুন। এটা আপনি ফ্রি ভাবে এবং অল্প সময়েই করতে পারবেন।
  • মনে রাখবেন, অ্যাফিলিয়েট হওয়ার জন্য কখনো টাকা দিবেন না।

অ্যাড অ্যাকাউন্ট

প্রত্যেকটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের জন্য আলাদা আলাদা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলুন। এতে কোন ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক একটি পেজ থেকে  বিভিন্ন বিজ্ঞাপন খুঁজে বের করতে হবে না। বরং নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনটাকে ফলো করতে পারবে।

প্রোগ্রাম প্রোমোট করুন

প্রতিদিন পোস্ট করুন এবং অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করুন নিখুঁত ভাবে। ফলোয়ার বাড়ানোর মাধ্যমেই প্রচার বাড়ানো সম্ভব। যখন কেউ আপনার পোস্টে ক্লিক করবে  এবং আপনার অ্যাফিলিয়েট থেকে কিছু কিনবে, আপনি আয় করবেন।
facebook freelancer groups

৩. ফ্রিল্যান্সিং জব খুঁজে নিন

ফ্রিল্যান্সিং জব পাওয়ার জন্য ফেসবুকে নির্দিষ্ট কিছু গ্রুপ আছে।  আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয় নিয়েই ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। যেমন : ফ্রিল্যান্স রাইটিং, ফ্রিল্যান্স ডিজাইনিং, ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফি , ফ্রিল্যান্সিং সোশাল মিডিয়া ওয়ার্ক ইত্যাদি। তবে গ্রুপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো গ্রুপের মধ্য থেকে সবচেয়ে অ্যাকটিভ গ্রুপটি নির্বাচন করে নেয়াই আপনার দায়িত্ব।
আরো পড়ুন:

৪. বিভিন্ন অনলাইন কনটেস্টে যোগদান করুন

ফেসবুক থেকে আয় এর জন্য এটি অত্যন্ত সহজ এবং সুলভ একটি পদ্ধতি। অনলাইনে এমন অনেক গ্রুপ আছে যারা নিজেদের ব্যবসার প্রসার বা পরিচিতির জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম কনটেস্টের আয়োজন করে। এদের মূল উদ্দেশ্যই থাকে নিজর গ্রুপ, পেজ, পণ্য বা কোম্পানির পরিচিতি বাড়ানো। কারণ ফেসবুকে বিনামূল্যে ভিজিটর পাওয়া যাচ্ছে এবং ভাইরাল হওয়ার মতো একটা অপশন তো আছেই!
এ সমস্ত কনটেস্টে আপনার কাজ হবে সর্বোচ্চ সংখ্যক বন্ধুদের ট্যাগ দেয়া, ইনভাইট করা, লাইক-কমেন্ট-শেয়ার করা। অর্থাৎ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার প্রচার সম্পন্ন করা। আপনার পারফরমেন্সের ওপর আপনাকে কনটেস্টে উইনার ঘোষণা করা হবে এবং এখান থেকে প্রাইজ হিসেবে আপনি আয় করতে পারেন সহজেই।

৫. লাভজনক ব্যবসার নিজস্ব গ্রুপ খুলুন

অন্যদের গ্রুপে কাজ না করে আপনি চাইলে নিজেই একটি গ্রুপ খুলে নিতে পারেন বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য। এক্ষেত্রে আপনার ফ্রেন্ডস-ফলোয়ার বেশি হলে প্রচারের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন বেশি। এরকম ব্যবসায়িক গ্রুপ ফেসবুকে এখন অহরহ। গ্রুপে আপনি বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রি করতে পারেন। যেমন : ড্রেস, জুয়েলারি, ফার্নিচার, খেলনা ইত্যাদি।
প্রত্যেকটি পণ্যের ছবি সহ দাম লিখে গ্রুপে পোস্ট করবেন। আপনার ক্লায়েন্টরা নিজস্ব পছন্দ এবং বাজেটের মধ্য থেকে পণ্য নির্বাচন করে নিয়ে বিকাশ বা অন্যান্য সহজ পদ্ধতিতে দাম পরিশোধ করে দিবে। আপনাকেও কুরিয়ার বা অন্যান্য সুবিধাজনক পরিবহন সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের নিকট পণ্য পৌঁছে দিতে হবে যথাযথ সময়ে। এক্ষেত্রে নিজের গ্রুপটি যথা ব্যবসাকে আরো বড় করতে চাইলে একই রকম ব্যবসায় নিয়জিত এমন অন্যান্য বন্ধুদের সাথে মিলে কাজ করতে পারেন।
facebook apps

৬. ফেসবুক অ্যাপস এর মাধ্যমে আয় করুন

ফেসবুক অ্যাপ ডেভলপার হিসেবে আপনি ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন। অথবা তৈরি করতে পারেন নিজস্ব ফেসবুক অ্যাপ। বিভিন্ন গেমিং কোম্পানি যেমন : Zynga, Popcap. ইত্যাদি থেকে নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করে আয় করতে পারেন যদি কম্পিউটারে দক্ষ হয়ে থাকেন।

৭. একজন  ইনফ্লুয়েন্সার হোন

কম্পিউটার অ্যাপ পেভলপিংয়ে দক্ষ নন! তাতে কী! আপনি চাইলেই একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে আপনার সাধারণ ফেসবুক প্রোফাইল থেকেই আয় করতে পারেন। যদি আপনার  ওয়ালের পোস্টগুলোতে মানসম্মত লাইক, কমেন্ট, শেয়ার থাকে  তবে একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ফেসবুক থেকে আয় করা আপনার জন্য সহজ হবে।
এমনকি আপনার যদি যথেষ্ট সংখ্যক ফ্যান-ফলোয়ার থাকে এবং আপনার নিজস্ব প্রোফাইলে তাদের সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তবে  BlogMint অথবা Fromote এ ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাকাউন্টে সাইন আপ করে আয় করতে পারেন সহজেই।
সাইন আপ করার পর আপনার প্রোফাইলের তথ্য দিয়ে একটা ফর্ম পূরণ করবেন এবং ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে নিজস্ব প্রাইস নির্ধারণ করে দিবেন। উদাহরণ স্বরূপ, কোন একটা ব্র্যান্ডের প্রত্যেক পোস্টের জন্য আপনি ৫০০০ টাকা নির্ধারণ করতে পারেন।

৮. অ্যাকাউন্ট সেল করে আয় করুন

যে কোন সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ফ্যান পেজ কেনা-বেচার সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট Viral Accounts এ নিজের পুরাতন অ্যাকাউন্ট বিক্রি করেও আপনি ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন।  আগে একের অধিক অ্যাকাউন্ট খোলার একটা ট্রেন্ড চালু ছিল।  কিন্তু এখন মার্কেটাররা সেই পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলো কিনতে আগ্রহী। কারণ ফেসবুকে পুরোনো অ্যাকাউন্টের গুরত্ব বেশি।
একইভাবে, ফ্যান-ফলোয়ারের ওপর ভিত্তি করে আপনার পুরোনো ফেসবুক গ্রুপ বা পেজও বিক্রি করতে পারেন এখানে।

৯.  ফেসবুক শপ

অনলাইনে জিনিসপত্র বিক্রির জন্য Facebok Shop একটা অসাধারণ অ্যাপ। আপনার যদি ই-কমার্স স্টোর, ছোটখাট ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনি এটা ব্যবহার করতে পারেন। এই অ্যাপের ফ্রি এবং পেইড ভার্সন আছে। ফ্রি ভার্সনটা লিমিটেড।

১০. গ্যারেজ সেল

GarageSale অ্যাপ Buy.com এর সাথে সংযুক্ত। এখানে আপনি আপনার পুরাতন জিনিসপত্র বিক্রি করে কিছু অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।
ফেসবুকের মতো বহুল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি এখন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এটার সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হচ্ছে এটি সর্বজনগৃহীত এবং প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের জন্য নিজের অবস্থান ও দক্ষতা অনুযায়ী আয়ের সুযোগ এখানে অব্যহত। আগ্রহী যে কেউ নিজের মেধা ও সময়ের সঠিক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন সবসময়।
৫০০ ডলার বা ৩৫ হাজার টাকা আয় করুন একটা মাত্র আর্টিকেল লিখে

আর্টিকেল লিখে আয় করুন ১ম পর্বে  আমরা পরিচিত হবো কয়েকটি সাইটের সঙ্গে যার মধ্যে এমন একটা সাইট রয়েছে যেখানে একটা আর্টিকেল লিখেই প্রতি মাসে ৩৫০০০ টাকা আয় করা যায়।  তাহলে আসুন, অন্যগুলোর সাথে জেনে নেই এই সাইটটি সম্পর্কেও।

make money online

একটা আর্টিকেল লিখে আয় করুন ৩৫ হাজার টাকা

আপনার যদি ইংরেজীতে ভাল লেখার যোগ্যতা থাকে আর আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষ বা অভিজ্ঞ হন, তাহলে অনায়াসে ঘরে বসে আর্টিকেল লিখে আয় করতে পারেন। কিভাবে? পড়ুন-

সাইটের নাম – হোয়াট কালচার : সন্মানি – ২৫ থেকে ৫০০ ডলার

ইংল্যান্ডে বসে দুই বন্ধু মিলে প্রথমে “সিনেমায় স্থুলতা” বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাদের সাইটের জনপ্রিয়তা, সেই সাথে বাড়তে থাকে ব্লগের বিষয়ও, আর গুগল অ্যাডসেন্স থেকে পকেটে ঢুকতে থাকে কাড়ি কাড়ি টাকা। পরবর্তীতে তারা ব্লগটাকে একটা ম্যাগাজিনে রূপ দেন।
৫২৯০ অ্যালেক্সা র‌্যাংক নিয়ে সাইটি এখন বিশ্বব্যাপী অন্যতম জনপ্রিয় সাইট হিসেবে অবস্থান করছে। এখন আর তারা নিজেরা তেমন একটা লিখেন না, অন্যদের থেকে লেখা সংগ্রহ করেন। আর বিনিময় হিসেবে মোটা অংকের সন্মানি প্রদান করেন।
whatculture
তবে এই সন্মানি আপনি লেখার পর পরই পাবেন না। আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে এক মাস পর্যন্ত। এক মাস পর দেখা হবে আপনার লেখাটির পেইজ ভিউ কত? যদি পেজ ভিউ ১০০০ হাজার হয়, তাহলে আপনি পাবেন ৫০ পাউন্ড বা প্রায় ৫ হাজার টাকা। ২০০০ হাজার পেজ ভিউ হলে  ১০ হাজার টাকা। এভাবে  পেজ ভিউ যত বাড়তে থাকবে, আপনার সন্মানিও তত বাড়তে থাকবে। এ সাইটের একটা জনপ্রিয় আর্টিকেলের পেজ ভিউ হয় ৭ হাজার পর্যন্ত। আর এর লেখক তখন সন্মানি পান প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।
কি লিখবেন-
  • মুভি, টিভি, গেম, খেলা-ধূলা ইত্যাদি বিষয়।
  • নিউজ বেইজড্ আর্টিকেল কিংবা লিস্টিং বেইজড্ লেখা অগ্রাধিকার পাবে।
কিভাবে লিখবেন-
  • প্রকাশিত লেখার ধরণ দেখে নিন এখানে – হোয়াট কালচার
  • লেখার জন্য প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কিংবা বিশেষ কোন কোয়ালিটির দরকার নেই। কিন্তু যা দরকার তা হচ্ছে- চমৎকার সৃষ্টিলীতা, বিস্তারিতভাবে লেখাটার গভীরে যাওয়ার জন্য অন্যরকম অর্ন্তদৃষ্টি, লেখা-লেখির প্রতি গভীর আবেগ আর সময়ের সঙ্গে আফডেট থাকা।
  • লিখতে হবে সম্পূর্ণ মৌলিক লেখা, কারো লেখা থেকে কপি পেস্ট করলে চলবে না।
  • লিস্টিং এর ক্ষেত্র লেখাটি হতে হবে কমপক্ষে ১৫০০ শব্দের।
  • লেখা প্রকাশিত হলে আপনার নিজস্ব ফেসবুক ও টুইটার প্রোপাইলে লেখাটি শেয়ার করতে হবে।

সাইটের নাম – ক্র্যাকড্ : সন্মানি – ১০০ থেকে ২০০ ডলার

ক্র্যাকড্ মূলত একটি হিউমার সাইট। আপনি যদি একজন স্মার্ট, মজার এবং সৃষ্টিশীল মানুষ হন, তাহলে ক্র্যাকড্ আপনাকে আর্টিকেল লিখে নগদ ইনকামের সুযোগ দিচ্ছে।
লেখার জন্য কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয় নেই আপনার। আপনি ভাল লিখতে পারলেই তারা আপনাকে সন্মানি দেবে।
cracked
কি লিখবেন-
  • আপনি যদি টিভি এবং মুভি দেখার পোকা হন এবং সে সম্পর্কে আপনি যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন, তাহলে লিখতে পারেন টিভি-সিনেমা নিয়ে।
  • আপনি গান শোনেন, গান-বাজনা এবং শিল্পীদের সম্পর্কে  ভাল খোঁজ-খবর রাখেন; লিখতে পারেন সেগুলো নিয়ে।
  • অথবা আপনি একজন ভাল গ্রাফিকস্ ডিজাইনার। ডিজাইনের উপর টিউটোরিয়াল লিখে ইনফোগ্রাফিকস্ এ প্রকাশ করে সাবমিট করতে পারেন।
  • আপনার সংগ্রহে যদি মজার মজার ভিডিও থাকে কিংবা না থাকলেও আপনি যদি ফানি ভিডিও তৈরী করে মজার একটি ডেসক্রিপশন লিখে সাবমিট করেন, তাতেও ক্র্যাকড্ আপনাকে একই সন্মানি প্রদান করবে। বোঝেনই তো, সাইটার নামই ক্র্যাকড্, মালিকও বোধ ক্র্যাকড্।
কিভাবে লিখবেন-
  • প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করুন। এরপর “ক্লিক অন দ্যা রাইটারস্ ওয়ার্কশপ” বাটনে ক্লিক করুন যা আপনাকে ম্যাসেজ বোর্ড পেজ-এ নিয়ে যাবে যেখানে আপনার আর্টিকেল সাবমিট করতে হবে।
  • লেখার একটা পটভূমি ঠিক করুন, আইডিয়াটি লিখুন, সঙ্গে পাঁচটা সাব-টপিক উল্লেখ করুন। এরপর আপনার পুরো আর্টকেলটি দিয়ে দিন।
  • শুরুর দিকে আপনাকে প্রতি আর্টিকেলের জন্য ১০০ ডলার দেয়া হবে।
  • আপনার লেখা পাঁচটা আর্টিকেল ছাপা হওয়ার পর থেকে প্রতি আর্টিকেলের জন্য ২০০ ডলার করে দেয়া শুরু করবে।
  • আপনার আর্টিকেল যদি তাদের সাইটের র‌্যাংক আর ভিজিটরের দিক থেকে টপ টেন-এর ভেতরে উঠে আসতে পারে, তাহলে আপনাকে আরও ১০০ ডলার বোনাস দেয়া হবে।
  • আর প্রতি সপ্তায় তাদের যে “ফটোশপ প্রতিযোগীতা” হয়, তাতে যদি সবার আগে অংশ নিতে পারেন, তাহলে আপনাকে আরও একশ ডলার এক্সট্রা দেয়া হবে।

সাইটের নাম – স্ট্রং হুইসপার : সন্মানি – ৫০ থেকে ১৫০ ডলার

স্ট্রং হুইসপার এমন একটি সাইট যা পৃথিবীব্যাপি ধনী-গরীবের মাঝে সমতা তৈরির লক্ষে কাজ করছে। বিশেষত যারা গরীব, ধনীদের মত নানাবিধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত যারা, তাদেরকে বড় হতে উৎসাহিত করা, জীবন-যাপনের কলা-কৌশল শেখানো এবং আয়ের পথ দেখানোই এ সাইটের মূল লক্ষ্য। আর এ লক্ষে আপনিও অংশ নিতে পারেন এবং এখানে একটা আর্টিকেল লিখেই আয় করতে পারেন ৫০ ডলার বা ৩৭৫০ টাকা থেকে ১১২৫০ টাকা।
strongwhispers
যে কোন বিষয়ে আপনার মতামত অন্যদেরকে জানাতে কিংবা কোন বিষয়ে আপনার জ্ঞান পৃথবীব্যাপি ছড়িয়ে দিতে স্টং হুইসপার আপনাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সুতরাং, এখানে লিখুন এবং সেই সাথে আয় করুন।
কি লিখবেন-
  • লিখতে পারেন ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে, দিতে পারেন ব্যবসায়িক পরামর্শ।
  • আপনি যদি সংস্কৃতি-প্রেমী হন, লিখতে পারেন সংস্কৃতি বিষয়ক লেখা।
  • লিখতে পারেন চাকরি ক্ষেত্রে সমস্যা, উত্তরেণর উপায়, চাকরিতে সফলতা পাওয়ার কৌশল কিংবা চাকরি করতে গিয়ে আপনার নিজস্ব অভিজ্ঞতা যা অন্যদের জন্যে উপকারী হতে পারে।
  • আপনার যদি মুভি-মিউজিক কিংবা বিনোদনের যে কোন অঙ্গনের প্রতি আগ্রহ আর নলেজ থাকে, লিখতে পারেন বিনোদন নিয়ে। ধরা যাক, আপনি অনেক হরর মুভি দেখেছেন, সেগুলো নিয়ে লিখতে পারেন- ‌”সর্বকালের সেরা ১০টি হরর মুভি” শিরোনামে।
  • এছাড়াও লিখতে পারেন প্রকৃতি, অনলাইনে আয়, রাজনীতি, খেলা-ধূলা, এমনকি ভ্রমন বিষয়ে।
কিভাবে লিখবেন-
  • প্রথমে স্ট্রং হুইসপার সাইটের হোম পেজ-এ (http://strongwhispers.com/) গিয়ে দেখে নিন তারা সাধারণত কী ধরণের লেখা প্রকাশ করে থাকে।
  • এবার নিজে একটি বিষয় নির্ধারণ করুন, যে বিষয়ে আপনি ভাল জানেন।
  • আপনার নির্ধারিত বিষয়টি, মানে আপনি যে বিষয়ে লিখতে চাইছেন তা মেইল করে ওদের জানান। সেই সাথে আপনার বিষয়টির আউট লাইন জানাতে ভুল করবেন না।
  • মনে রাখবেন, আপনার পুরো লেখাটি মেইল করার দরকার নেই শুধুমাত্র শিরোনাম আর সারমর্ম লিখুন।
  • আপনার টপিক পছন্দ হলে ওরা আপনাকে মেইলের জবাব দিয়ে নিশ্চিত করবে এবং লেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে।
  • এরপর আপনাকে পুরো লেখাটি পাঠাতে হবে। রিভিউ বোর্ড থেকে ছাড় পেলে আপনার লেখাটি প্রকাশ করা হবে এবং আপনাকে উপরোল্লেখিত সন্মানি প্রদান করা হবে।
আগামী পর্বে থাকবে আরো কিছু ওয়েব সাইটের কথা যারা লেখার জন্য পে করে। পরবর্তীতে আসবে কিভাবে এইসব এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে হয় তার ওপর ধারাবাহিক লেখা। আমাদের ফেসবুক পেজটিতে লাইক দিয়ে রাখুন, পরবতীর্তে যাতে খুঁজে পেতে সুবিধা হয়।
মোবাইলে ছবি তুলুন আর ঘরে বসে আয় করুন

আপনার হাতে নিশ্চয়ই একটি মোবাইল বা স্মার্টফোন রয়েছে আর দিন-রাত কেবল আপনার নিজের, পরিবারের কিংবা প্রকৃতির ছবি তুলছেন, শেয়ার করছেন সোশাল মিডিয়ায়, ট্যাগ করছেন চারপাশের পরিচিত জনদের, পাচ্ছেন লট অব লাইক। কিন্তু জানেন কী মোবাইলে ছবি তুলে আয় করতে পারেন ঘরে বসে, যদি আপনার কাছে থাকে একটি নির্দিষ্ট্য অ্যাপ যার নাম স্ট্রিটস্পটার।

এতদিন ছবি তুলেছেন শখের বশে, হাতে মোবাইল থাকলেই ছবি তোলার জন্য হাত পিন পিন করে আর সেই পিনপিনানি বন্ধের জন্য কিংবা ফেসবুকে শেয়ার করে প্রিয়জনদের লাইক বা কমেন্ট পাওয়ার জন্য। এখন ছবি তুলুন ‘স্ট্রিটস্পটার’ নামের এই অ্যাপটির জন্য। না, স্ট্রিটস্পটার আপনাকে ফেসবুকে শেয়ার করতে বাধা দেবে না, আপনি আপনার কাজ আগের মতই চালিয়ে যেতে পারবেন, মাঝখানে যদি পকেট মানি হিসেবে কিছু বাড়তি আয় পকেটে ঢুকে তো মন্দ কী! বন্ধুদের নিয়ে মজা করে খাওয়া যায়, আড্ডায় নিজের গুরুত্ব আরেকটু বাড়ানো যায় কিংবা ছোট বোন বা ছোট ভাইটাকে জন্মদিনে ঝকঝমে একটি গিফট্ দেয়া যায়। সুতরাং…….

স্ট্রিটস্পটার অ্যাপ দিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে আয় করুন

streetspotr
    স্ট্রিটস্পটার অ্যাপের সাহায্যে তোলা আপনার ছবি পৌঁছে যাবে জার্মানির নুরেমবার্গ শহরে অবস্থিত স্ট্রিটস্পটার কোম্পানির সদর দপ্তরে। কোম্পানীর কর্মীরা আপনার তোলা ছবিগুলো পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে দিয়ে দেবে কোন বিজ্ঞাপন এজেন্সিকে কিংবা বাড়ি কেনা-বেচা থেকে শুরু পর্যটন শিল্প পর্যন্ত যে কোন কোম্পানীকে। বিশ্বজুড়ে স্ট্রিটস্পটার কোম্পানীর রয়েচে হাজার হাজার ক্লায়েন্ট আর একেক রকম ক্লায়েন্টের দরকার হয় একেক রকমের ছবি। কে জানে আপনার শখের বশে তোলা ছবিটি কোন কোম্পানীর কাজে লেগে যায়!

    স্ট্রিটস্পটার কি?

    স্ট্রিটস্পটার জার্মানির একটি বিখ্যাত রিটেল ইন্টেলিজেন্স কোম্পানী। পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন কোম্পানীর রিয়েল টাইম প্রোডাক্ট প্রমোশন যার মূল কাজ। আর এই প্রমোশনের জন্য কোম্পানীটির প্রচুর কর্মী দরকার হয়। কিন্তু কর্মী নিয়োগ না দিয়ে কোম্পানীটি এই অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের জন্য কর্মী খুঁজে নেয়। আর কর্মীদের তোলা ছবিগুলো থেকে সুন্দর এবং দরকারি ছবিগুলো তারা বিক্রি করে দেয় আর আয়কৃত অর্থ থেকে একটা অংশ তারা ছবির মালিকের সাথে শেয়ার করে। এতে তারা যেমন ভাল ভাল ছবি পেয়ে যায় আবার তাদের খরচও কমে যায়। মাঝখানে ছবিওয়ালাও হিসেবে আপনিও একটা পকেট মানি পেয়ে যাবেন।
    অবিশ্বাস্য লাগছে! তাহলে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট app.streetspotr.com এ চলে যান আর জেনে নিন বিস্তারিত সেখান থেকেই।

    কী ছবি তুলবেন?

    তুলতে পারেন দর্শনীয় স্থানের ছবি, উদ্ভট বা পাগলামো ভরা মানুষের ছবি, দোকান-পাট ব্যবসা বাণিজ্যের ছবি, বিশেষ করে বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হতে পারে এমন ছবির দিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন। তবে কী ছবি তুলবেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাপটি আপনাকে নোটিফিকেশন দিয়ে জানিয়ে দেবে। অর্থাৎ যখন কোম্পানীটির বিশেষ কোন ছবির দরকার হয়, তখন তারা অ্যাপটির মাধ্যমে একটা নোটিফিকেশন ছেড়ে দেয় আর যাদের যাদের মোবাইলে অ্যাপটি থাকে, তাদের সবাই সেই নোটিফিকেশন দেখতে পায়। কোম্পানীর প্রয়োজন অনুসারে আপনি যদি ছবিটি তুলে দিতে পারেন তাহলে পারিশ্রমিকও পাবেন বেশি। আর যে কারোই পারিশ্রমিক দিয়ে দেয়া হয় সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে। তবে পারিশ্রমিক নিতে হলে আপনার একটি পে-পাল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশে যেহেতু পে-পাল এখনো চালু হয়নি সেহেতু দেশের বাইরে থাকে এমন কোন বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের অ্যাকাউন্টে নিয়ে নিতে পারবেন।
    উল্লেখ্য, অ্যাপটি আইফোন ছাড়াও যে কোন অ্যান্ডয়েড ফোনে ডাউনলোড করা যায়। সুতরাং, এখনি ডাউনলোড করে নিন আর শুরু করে দিন ছবি তোলা। আইফোনের জন্য আইফোন অ্যাপ স্টোর আর অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য গুগল প্লে থেকে ডাউন করতে পারবেন।  আর লেখাটি শেয়ার করে আপনার অন্যান্য বন্ধু-বান্ধব এবং প্রপেশনাল ফটোগ্রাফার কিংবা সৌখিন ফটোগ্রাফার বন্ধুদের জানিয়ে দিন।

    Latest Post

    Uses of Prepositions

    Preposition   একটি part of speech যা অবস্থান বোঝায় ,  সাধারণত noun বা pronoun এর সামনে বসে noun বা pronoun এর সাথে sentence এর অন্যানো শব্...